কৌতূহল

'মহাকাশ রক্তাল্পতা': রকেট যাত্রীদের ক্ষেত্রে যে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে

বিজ্ঞাপন

"স্পেস অ্যানিমিয়া" এমন একটি শব্দ যা "অ্যানিমিয়া" নামক চিকিৎসাগত অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে এবং এটিকে রকেটের যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। এটি আসলে কোনও বাস্তব অবস্থার কথা উল্লেখ করে না, তবে দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমণের সময় ওজনহীনতার প্রভাব বর্ণনা করার এটি একটি মজাদার উপায়।

দীর্ঘক্ষণ মাইক্রোগ্রাভিটির সংস্পর্শে থাকার ফলে মহাকাশচারীদের জন্য বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে পেশী ভর এবং হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস, ঘুমের ব্যাধি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং রক্ত সঞ্চালনে পরিবর্তন। রক্ত সঞ্চালনের এই পরিবর্তনগুলিকে রূপকভাবে রক্তাল্পতার সাথে তুলনা করা যেতে পারে, কারণ মাধ্যাকর্ষণের অভাবে রক্ত শরীরে ভিন্নভাবে নিজেকে পুনর্বণ্টন করতে থাকে।

তবে, এটি কোনও ঐতিহ্যবাহী রক্তাল্পতাজনিত অবস্থা নয়, যেখানে রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পায়। বরং, এটি দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ ভ্রমণের সময় মানবদেহের উপর মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাবের একটি হাস্যকর সরলীকরণ।

মহাকাশ রক্তাল্পতা কীভাবে উদ্ভূত হয়েছিল?

"স্পেস অ্যানিমিয়া" শব্দটি দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমণের সময় মানবদেহে মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাব বর্ণনা করার জন্য একটি হাস্যকর বা রূপক সৃষ্টি বলে মনে হয়। এই অভিব্যক্তির উৎপত্তির কোন নির্দিষ্ট বিন্দু নেই, তবে এটি সম্ভবত মহাকাশচারীদের দেহের উপর মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতির প্রভাব ব্যাখ্যা করার একটি সৃজনশীল এবং সরলীকৃত উপায় হিসাবে উদ্ভূত হয়েছিল।

দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ অভিযানের সময়, মহাকাশচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে মাইক্রোগ্রাভিটির সংস্পর্শে থাকার কারণে বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারেন, যার মধ্যে রয়েছে পেশী ভর হ্রাস, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস, হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি। "স্পেস অ্যানিমিয়া" শব্দটি হয়তো হাস্যকরভাবে এবং সহজভাবে বোঝানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে যে মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতির কারণে রক্ত সঞ্চালন এবং অন্যান্য শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কীভাবে প্রভাবিত হয়।

মানুষের উপর স্থানের প্রভাব

চরম পরিবেশ এবং মাধ্যাকর্ষণের অভাবের কারণে মহাকাশের সংস্পর্শে মানুষের উপর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। কিছু প্রধান প্রভাবের মধ্যে রয়েছে:

১. **পেশী ভর এবং হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস:** মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির অভাবের ফলে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর মতো তাদের পেশী এবং হাড় একইভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। এর ফলে পেশী ভর এবং হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত হ্রাস পায়, যা পেশী দুর্বলতা এবং অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

২. **শরীরের তরল পদার্থের স্থানান্তর:** মাধ্যাকর্ষণের অভাবের ফলে শরীরের তরল পদার্থের পুনর্বণ্টন ঘটে, যার ফলে শরীরের উপরের অংশে বেশি তরল পদার্থ তৈরি হয় এবং পায়ে কম। এর ফলে মুখ ফুলে যেতে পারে, পা পাতলা হতে পারে এবং নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে।

৩. **হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা হ্রাস:** মহাকর্ষের অনুপস্থিতির কারণে হৃদপিণ্ডকে মহাকাশে তেমন পরিশ্রম করতে হয় না। এর ফলে হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে এবং অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (দাঁড়িয়ে থাকলে রক্তচাপ কমে যাওয়া) হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

৪. **রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তন:** মহাকাশে সংস্পর্শ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে মহাকাশচারীরা সংক্রমণের জন্য বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন।

৫. **চোখের সমস্যা:** কিছু মহাকাশচারীর চোখের সমস্যা দেখা দেয়, যেমন অদূরদর্শিতা বা দূরদর্শিতা, ওজনহীনতার কারণে চোখের বলের উপর চাপ বৃদ্ধির কারণে।

৬. **ঘুমের ব্যাধি:** মহাকাশযানে দিন-রাতের একটি স্বতন্ত্র চক্র এবং জীবনযাত্রার অবস্থার অভাব মহাকাশচারীদের মধ্যে ঘুমের ব্যাধির কারণ হতে পারে।

৭. **বিকিরণের ঝুঁকি:** পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষার বাইরে, মহাকাশচারীরা উচ্চ স্তরের মহাজাগতিক বিকিরণের সংস্পর্শে আসেন, যা ক্যান্সার এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এগুলো মানুষের উপর স্থানের সংস্পর্শের কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য প্রভাব মাত্র। মহাকাশ সংস্থাগুলি বর্ধিত মহাকাশ অভিযানের সময় এই প্রভাবগুলি প্রশমিত করার এবং মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য বজায় রাখার উপায়গুলি ক্রমাগত গবেষণা করছে।